মরিঙ্গা পাউডার - ৫০% ডিসকাউন্ট
  • মরিঙ্গা পাউডার - ৪২% ডিসকাউন্ট  Shop now
  • Need help? Call Us:   +8809613827475

রোজা না রাখা বা রেখে ভেঙে ফেলার শাস্তি।

রোজা না রাখা বা রেখে ভেঙে ফেলার শাস্তি।

রোজা না রাখা বা ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভেঙে ফেলার শাস্তি ইসলামিক শরিয়াতে বেশ কঠিন এবং গুরুতর বিষয়। রোজা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং এর সাথে সম্পর্কিত নিয়ম-নীতি মেনে চলা প্রতিটি মুসলিমের উপর ফরজ। যদি কেউ রোজা না রাখে বা ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভেঙে ফেলে, তাহলে তার জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।

 

১. রোজা না রাখা :
রোজা না রাখার কারণ যদি ইচ্ছাকৃত হয় (যেমন, স্বাস্থ্য সমস্যা ছাড়া), তাহলে এটি গুরুতর গুনাহ হিসেবে গণ্য হয়। ইসলামের দৃষ্টিতে রোজা রাখা একটি ফরজ ইবাদত, এবং তা না রাখলে আল্লাহর প্রতি অবাধ্যতা প্রকাশিত হয়। এই ধরনের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে তাওবা করা প্রয়োজন এবং পরবর্তীতে রোজা রাখা উচিত।

 

২. রোজা ভেঙে ফেলা (ইচ্ছাকৃতভাবে) :
ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভেঙে ফেলা, যেমন খাওয়া-দাওয়া বা অন্য কোনো কারণে রোজা ভেঙে ফেলা, তা খুবই গুরুতর। ইসলামে এর জন্য শাস্তি হিসেবে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। শাস্তি নির্ভর করে পরিস্থিতির উপর, তবে কিছু সাধারণ শাস্তির বিধান নিম্নরূপ:

- কাফফারা (পাপমোচন) : 
  যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভেঙে ফেলে, তাকে কাফফারা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে:
  - দুই মাস পবিত্রভাবে রোজা রাখা বা
  - যদি কেউ রোজা রাখতে অক্ষম হয়, তাহলে তাকে ৬০ জন গরীবকে একদিনের খাদ্য দান করতে হবে।

- দোয়া ও তাওবা:  
  তাওবা করার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। ইসলামে গুনাহ মাফ করার ব্যাপারে আল্লাহর রহমত বিশাল, তাই সৎভাবে তাওবা করলে আল্লাহ অবশ্যই ক্ষমা করবেন।

 

৩. বিশেষ পরিস্থিতি :

যারা অস্বাস্থ্যজনক কারণে রোজা রাখতে অক্ষম, যেমন গুরুতর অসুখ বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা, তাদের উপর রোজা ফরজ নয়, তবে তারা কাফফারা দিতে পারেন না। তাদের জন্য ফিদিয়া প্রদান করা হয়, যার মাধ্যমে তারা গরীবদের খাদ্য দিতে পারেন।

 

রমজানের গুরুত্ব ও পুণ্যের জন্য প্রতিটি মুসলিমকে রোজা রাখা উচিত এবং আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। রোজা না রাখলে বা ভেঙে ফেললে শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আন্তরিক তাওবা এবং পরবর্তীতে নিয়মিত রোজা রাখা উচিত।

 

আবু উমামা (রা.) বলেন,
আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি,
তিনি বলেছেন,
‘‘ আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ দুজন লোক এসে আমার বাহু ধরে আমাকে নিয়ে দুর্গম এক পাহাড়ে গেলো।
তারা আমাকে বললো,
- ‘‘ (পাহাড়ে) উঠুন। ’’
আমি বললাম,
- ‘‘ আমার দ্বারা ওঠা সম্ভব নয়। ’’
তারা ‎বললো,
- ‘‘ আমরা আপনাকে ( ওঠা ) সহজ করে দিচ্ছি। ’’

তখন আমি ওঠলাম। যখন পাহাড়ের চূড়ায় ‌‎পৌঁছলাম, তখন বিকট আওয়াজের সম্মুখীন হলাম।
জিজ্ঞাসা করলাম,
- ‘‘ এইগুলো কিসের আওয়াজ? ’’
তারা ‎বললো,
- ‘‘ এইগুলো জাহান্নামিদের আর্তনাদ। ’’

অতঃপর তারা আমাকে নিয়ে যাত্রা শুরু করলো। আমি এমন লোকদের সম্মুখীন হলাম, যাদেরকে হাঁটুতে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
তাদের চোয়াল ‌‎ক্ষত-বিক্ষত। সেখান থেকে অনবরত রক্ত ঝরছে।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম,
- ‘‘ এরা কারা? ’’
তারা বললো,
- ‘‘ এরা ‎হলো সেসব লোক, যারা রোজা পূর্ণ করার আগে ভেঙ্গে ফেলতো। ’’

[ ইমাম নাসায়ি, আস-সুনানুল কুবরাঃ ৩২৭৩]


Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy